সংসদে চারগুণ শক্তি নিয়ে ‘দায়িত্বশীল বিরোধী দল’ হওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

0
সংসদে চারগুণ শক্তি নিয়ে ‘দায়িত্বশীল বিরোধী দল’ হওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

আজকের ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে একটি শক্তিশালী, নীতিবান ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন: গত কয়েক দশকের তুলনায় এবার সংসদে জামায়াতের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত এখন একটি অন্যতম শক্তিশালী সংসদীয় বিরোধী দল। ডা. শফিকুর রহমান কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফলে অনেকেই হতাশ হতে পারেন, কিন্তু এটি কোনো ধাক্কা নয়; এটি আগামী দিনের সাফল্যের একটি শক্তিশালী ভিত্তি।”

রাজনীতির ভাগ্য যে পরিবর্তনশীল, তা বোঝাতে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস টেনে আনেন। তিনি লিখেন: “বিএনপি ২০০৮ সালে মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা আজ সরকার গঠনের পথে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত করা।”

নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হওয়া সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে পিছপা হননি। তাদের এই সাহসিকতা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে তিনি মনে করেন।

বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের কৌশল কেমন হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন আমির। তিনি জানান: একটি নীতিবান ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে সরকারের প্রতিটি কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা। কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক পরামর্শ ও অবদান রাখা।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা কেবল প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায়কে বীরোচিতভাবে গ্রহণ করার ওপর নির্ভর করে। জামায়াত একটি ‘ন্যায়নিষ্ঠ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার আন্দোলনে অটল থাকবে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার বজায় রাখবে।