আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘একতরফা শুল্ক’ আরোপের ক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি পরাজয় বরণ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে জানানো হয়েছে, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের এই ধরনের শুল্ক আরোপের কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই এই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পক্ষে মত দেন। রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন যে অসীম ক্ষমতার দাবি করছে, তা মার্কিন সংবিধানের কাঠামোর পরিপন্থি। “প্রেসিডেন্ট অসীম পরিমাণ, সময়সীমা ও পরিসরে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করছেন। এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।” জন রবার্টস, প্রধান বিচারপতি
আইনি বিতর্কের মূলে কী ছিল?
পুরো আইনি লড়াইটি আবর্তিত হয়েছে ১৯৭০-এর দশকের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (IEEPA) নিয়ে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি: এই আইনের ‘ইম্পোর্ট রেগুলেশন’ বা আমদানি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার মধ্যেই শুল্ক (Tariff) আরোপের ক্ষমতা নিহিত।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি: আইনে কোথাও ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’ শব্দটির উল্লেখ নেই। কংগ্রেস এই ক্ষমতা কখনোই প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে ব্যবহারের জন্য দেয়নি।
আদালতের সিদ্ধান্ত: সুপ্রিম কোর্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যুক্তির সাথে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, আইইইপিএ (IEEPA) এ ক্ষেত্রে ‘অপ্রতুল’।
এই রায়ের ফলে মার্কিন কোষাগারে জমা হওয়া প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার শুল্ক নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৩ লাখ ১ হাজারের বেশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করেছে। আদালত এই অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেননি। বিষয়টি এখন নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হতে পারে। বিচারপতি কাভানাহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই বিপুল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে এক জটিল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি করতে পারে।
এই রায়ের প্রভাব কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং বৈশ্বিক। ট্রাম্পের ঘোষিত বিতর্কিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কসহ চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর এখন আইনি বৈধতা হারিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল—এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে। তবে আদালত মনে করেন, জাতীয় শক্তির দোহাই দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে কার্যত ‘কর’ আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।
সিএনএন অবলম্বনে

