মাদক সেবন করে পুলিশ সদস্যের উন্মত্ত কাণ্ড: নারায়ণগঞ্জে ঘাট ভাঙচুর ও নাচানাচির ভিডিও ভাইরালে এএসআই ক্লোজড

0
মাদক সেবন করে পুলিশ সদস্যের উন্মত্ত কাণ্ড: নারায়ণগঞ্জে ঘাট ভাঙচুর ও নাচানাচির ভিডিও ভাইরালে এএসআই ক্লোজড

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গানের সঙ্গে উন্মত্ত নাচ, অসংলগ্ন কথাবার্তা, ঘাটের জিনিসপত্র ভাঙচুর এবং টাকা ছড়িয়ে ফেলার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে এক নৌ-পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মান্নান। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই লঙ্কাকাণ্ডের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্য গানের তালে তালে বেপরোয়া নাচানাচি করছেন এবং উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মাদক সেবন করে তিনি মাতলামি করার পাশাপাশি ঘাটের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন এবং ঘাটের সংগৃহীত টাকা পানিতে ফেলে দেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন দাবি করে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ ও শারীরিক মারধরের কথা বলে চিৎকার করতে থাকেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁর মাদকাসক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ২০ দিন আগে এএসআই মান্নান সদর নৌ থানায় যোগদান করেছিলেন। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর নৌ-পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেনের নির্দেশে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুজ্জামান জানান, পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি। মদ বা অন্যান্য মাদক সেবনের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান। তবে ঘাটে ভাঙচুর বা টাকা ফেলার বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং চাকরি ছাড়ার কথাটি তাঁর মানসিকভাবে অসুস্থতাজনিত প্রলাপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নৌ-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা মাদকসংশ্লিষ্টতার বিষযয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখা হবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।