ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের পৃথক ডাকা ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। রোববার সকালে কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন এবং মাঠের মালিক ও প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নেন। তবে এর আগের দিন একই স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের পক্ষে স্থানীয় নেতা জালাল উদ্দিনও ইফতার মাহফিল আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই সময় ও স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়।এ অবস্থায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুবির কুমার দাস ওই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে সব ধরনের জনসমাগম ও সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই মাঠ ও সংলগ্ন সড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জেলা থেকে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাঠের জমির মালিক শওকত হোসেন জানান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ আগেই তার কাছ থেকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন। তবে রাশেদ খানের পক্ষ থেকে কেউ তার কাছে অনুমতি নেননি বলে তিনি দাবি করেন।১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, একই মাঠে একই সময়ে দুই পক্ষের ইফতার মাহফিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বিষয়টি জানাতে শহরে মাইকিং করা হয়েছে এবং সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও একই স্থানে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ডাকা ইফতার মাহফিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। তবে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এদিকে ১৪৪ ধারা জারি প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের আদর্শের রাজনীতি করেন। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার ইফতার মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে আইনকে সম্মান জানিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে তিনি জানান।

