ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা ফয়সল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মিলনায়তনে ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
ভোটে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ফলাফল: মির্জা ফয়সল আমীন (বিএনপি) ধানের শীষ ২,২৭,৭৮৯, দেলাওয়ার হোসেন (জামায়াতে ইসলামী) দাঁড়িপাল্লা ৯৬,৪৫৩, ডা. খাদেমুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা ৩,২৮৮, মো. আবদুল আলীম নিজামী (খেলাফত আন্দোলন) বটগাছ ৮৩৬, হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ডাব ৪৪৯
এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৮৫টি কেন্দ্রে টানা ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন (পুরুষ ভোটার ২,৫৭,৪৭৫; নারী ভোটার ২,৫৮,৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন)। এ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৪.৭৭ শতাংশ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।” তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটার, প্রার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর সংবিধান অনুযায়ী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। শূন্য ঘোষিত এই আসনেই নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন আয়োজন করে, যেখানে জয় পেলেন তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।

