‘ফ্যাসিস্টের দোসরের ভাষণ শুনতে সংসদে যাব না’: রাজশাহীতে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

0
‘ফ্যাসিস্টের দোসরের ভাষণ শুনতে সংসদে যাব না’: রাজশাহীতে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

মাসুদ রানা রাব্বানীঃ রাজশাহীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলটি এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক জনসভায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

আগামী ১২ মার্চ নবনির্বাচিত ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপি ওই ভাষণ বর্জন করবে।

তিনি বলেন, “আমরা ১২ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার জন্য যাচ্ছি না। আমরা সংসদে যাচ্ছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটে বিজয়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করেছেন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ হিসেবে এখনো পদে টিকে আছেন। অবিলম্বে তাকে অভিশংসন (Impeachment) করে বিচারের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইফতার মাহফিলে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান সরকারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে ঠিকই, কিন্তু তারা এখন স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি গণআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করেন, তবে রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হবে। দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কোনো অগণতান্ত্রিক সমঝোতা এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।”

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই খুনিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি-বিদেশি যে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান তিনি।

সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইশতেহার অনুযায়ী কার্ড দেওয়া একটি ভালো উদ্যোগ। যদি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ না হয়, তবে এই কার্ড সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না। তিনি দাবি করেন, ঋণখেলাপিদের সংসদে জায়গা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনো সংস্কার সম্ভব নয়। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজউদ্দিন মণ্ডল। তারা সকলেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়াও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, মনিরা শারমিন এবং স্থানীয় সমন্বয়ক ইমরান ইমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।