বিনোদন প্রতিবেদকঃ টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওস্থ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার জন্মভিটা রাজশাহীতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে আজ সন্ধ্যায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
শামস সুমন কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, ছিলেন দক্ষ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল রেডিওর হাত ধরে। শৈশব থেকেই রেডিও শিল্পী হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। পরবর্তীতে মঞ্চ ও ছোট পর্দায় নিজের অভিনয়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কিছু মাইলফলক, তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘আয়না কাহিনি’ এবং ‘নমুনা’ বিশেষভাবে সমাদৃত।
বিগত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত হলেও টেলিভিশন নাটকের স্বর্ণযুগে শামস সুমন ছিলেন অপরিহার্য এক নাম। তার সহকর্মীরা তাকে একজন নিভৃতচারী, পরিশ্রমী ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য কালজয়ী নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আজ সকালে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এক নক্ষত্র পতনের মধ্য দিয়ে বাংলা অভিনয় জগত হারাল এক শক্তিশালী কারিগরকে।

