টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসার নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। একই সাথে স্থানীয়দের ওপর ছাত্রদের দিয়ে হামলার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতাও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওই মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত শিক্ষক আল আমিন (২৫) উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্রি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষকের পাশাপাশি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হয় ভুক্তভোগী শিশুটি। স্বজনদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে নিয়মিত যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষক আল আমিন। নির্যাতনের ফলে রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হলে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি তার মাকে খবর দেয়।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর শিশুটির মলদ্বারে মারাত্মক ক্ষত ও বলাৎকারের সচিত্র প্রমাণ মেলে। চিকিৎসক স্বজনদের জানান, দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষরণ ও ক্ষতের সঠিক চিকিৎসা না হলে শিশুটির ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও স্বজনরা মাদরাসায় এসে বিচার দাবি করলে শিক্ষক আল আমিন ও প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামান উল্টো তাদের ওপর চড়াও হন। খবরটি আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দেয়।
ঘটনা চলাকালে মাদরাসার গেট বন্ধ করে লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মূল অভিযুক্ত আল আমিন ও হামলা উসকানির অভিযোগে প্রিন্সিপাল মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

