চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরাইলি অস্ত্র কারখানায় ‘গেরিলা’ হামলা: যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড

0
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরাইলি অস্ত্র কারখানায় 'গেরিলা' হামলা: যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। চেক প্রজাতন্ত্রের পারদুবাইস শহরে ইসরাইলি অস্ত্র জায়ান্ট এলবিট সিস্টেমস-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করার নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

চেক প্রজাতন্ত্রে এলবিট সিস্টেমসে হামলা: দায় স্বীকার ‘আর্থকুয়েক ফ্যাকশন’-এর শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে চেক প্রজাতন্ত্রের পারদুবাইস শহরে এলবিট সিস্টেমস ও একটি স্থানীয় কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিসংযোগে স্থাপনাটির বেশ কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়েছে।

নিজেদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দাবি করে সংগঠনটি টেলিগ্রামে দায় স্বীকার করেছে। তাদের মতে, ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের ইউরোপীয় অপারেশনের জন্য এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তারা জানিয়েছে, ফিলিস্তিন ও পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ ধরনের সরাসরি অ্যাকশন চালিয়ে যাবে। তাদের ভাষ্য, “সরকারগুলোর কাছে ভিক্ষা চাওয়ার সময় শেষ, এখন ধ্বংস করার সময়।”

চেক পুলিশ একে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের ওপর চলমান সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সুইস সরকার।

সুইজারল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সংঘাত চলাকালীন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো যুদ্ধ সরঞ্জাম বা অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স প্রদান করবে না।

দেশটির ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার নীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের সাথে সরাসরি জড়িত কোনো দেশে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ করা সুইজারল্যান্ডের সংবিধান ও নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তির কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তটি বৈশ্বিক সামরিক কূটনীতিতে সুইজারল্যান্ডের দৃঢ় অবস্থানকে পুনরায় জানান দিল।

এই দুটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন আর কেবল সেই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর ফলে একদিকে যেমন ইউরোপের মাটিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রগুলো তাদের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে।