উৎসবের রঙে ঢাকা: কাল জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত, রাজধানীতে ১৭৭১টি আয়োজনে প্রস্তুত লাখো মুসল্লি

0
উৎসবের রঙে ঢাকা: কাল জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত, রাজধানীতে ১৭৭১টি আয়োজনে প্রস্তুত লাখো মুসল্লি

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ এক মাসের সংযম শেষে দুয়ারে কড়া নাড়ছে আনন্দধারা। কাল শনিবার রাজধানী ঢাকার আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনিতে। হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত। প্রায় এক লাখ মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে প্রশাসন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আবহাওয়া প্রতিকূল না হলে এখানেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করবেন।

কালবৈশাখীর আশঙ্কা বা বৃষ্টি হলে প্রধান জামাতটি সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য আলাদা অজুর জায়গা ও পর্দা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ প্রায় ৩৩০ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী ও বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বায়তুল মোকাররম: পাঁচটি জামাতের ধারাবাহিকতা যাঁরা প্রধান জামাতে অংশ নিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি পৃথক জামাতের ব্যবস্থা করেছে। সময়সূচি অনুযায়ী: প্রথম জামাত: সকাল ৭টা (ইমামতি করবেন হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান)। দ্বিতীয় জামাত: সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত: সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত: সকাল ১০টা, পঞ্চম ও শেষ জামাত: সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট।

জাতীয় সংসদ: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় দৃষ্টিনন্দন ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সংসদ সদস্য ও সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেবেন। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক প্রবেশপথ ও ব্যবস্থা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত (সকাল ৮টা ও ৯টা) ছাড়াও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেট সংলগ্ন মাঠ এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটির গুরুত্বপূর্ণ মাঠগুলোতে জামাতের ধুম পড়বে: আগারগাঁও: পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিশাল আয়োজনে ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়বেন সকাল ৮টায়।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা: অভিজাত এই এলাকায় বিভিন্ন ব্লকে মোট ১৭টি জামাত হবে, যার মধ্যে বড় বড় মারকাজুল ফিকহিল ইসলামী ও বড় মসজিদগুলো অন্তর্ভুক্ত।

পুরান ঢাকা: ধূপখোলা মাঠ, মিয়া সাহেবের ময়দান এবং লক্ষ্মীবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোতে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জামাত শেষ হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৭৭টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আর্চওয়ে গেট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু (ব্যাগ, ছুরি বা দাহ্য পদার্থ) সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঈদের এই আনন্দ যেন সবার জীবনে বয়ে আনে শান্তি। বড় জামাতগুলোতে শৃঙ্খলার সাথে অংশ নিতে আগেভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।