ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের দাবানল: ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নতুন সমীকরণে বিশ্ব রাজনীতি

0
ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের দাবানল: ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নতুন সমীকরণে বিশ্ব রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে ইরান যুদ্ধ এখন উত্তাল ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়ছে। দীর্ঘ ৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগরের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের এই ঘাঁটিতে হামলার সক্ষমতা ইরান এর আগে কখনো প্রদর্শন করেনি।

মাঝপথেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে। এটি ঠেকাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে একটি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী মিসাইল ছোড়া হয়। তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে নাকি ধ্বংস করা গেছে, তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা।

এই হামলাটির মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপের যেকোনো প্রান্ত বা ভারত মহাসাগরের গভীরে থাকা পশ্চিমা ঘাঁটিগুলোও তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়।

এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কয়েক সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে ভারত মহাসাগরীয় জলসীমায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা কে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেয় একটি মার্কিন সাবমেরিন। ভারতের আয়োজিত ‘মিলান ২০২৬’ নৌ মহড়া থেকে ফেরার পথে ওই হামলায় ৮৫ জন ইরানি নাবিক নিহত হন। পেন্টাগন আগেই ঘোষণা করেছে যে, ইরানের নৌবাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়া এই যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। ডিয়েগো গার্সিয়ায় এই হামলাকে সেই ঘটনারই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এখান থেকেই উড্ডয়ন করত। বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ও আমেরিকানদের এটি প্রধান প্রতিরক্ষা দুর্গ। ব্রিটেন সম্প্রতি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও ডিয়েগো গার্সিয়ার লিজ ধরে রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই দ্বীপ হস্তান্তরের ঘোর বিরোধিতা করে আসছেন।

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনিশ তেওয়ারি এক্সে (পূর্বের টুইটার) এক পোস্টে সতর্ক করে বলেছেন, “যদি ডিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার খবর সত্য হয়, তবে ইরান যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসরকে নাটকীয়ভাবে দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত করেছে। এটি পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।”

এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা তেহরান কেউই এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে ভারত মহাসাগরের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও নৌ-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।