মহেশপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও’র বক্তব্য বর্জন করে বিএনপির বিক্ষোভ

0
মহেশপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও’র বক্তব্য বর্জন করে বিএনপির বিক্ষোভ

সাইফুল ইসলামঃ ঝিনাইদহের মহেশপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করার অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. খাদিজা আক্তারের অপসারণ চেয়ে আজ বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিচ্ছিলেন ইউএনও মোছা. খাদিজা আক্তার। অভিযোগ উঠেছে, তার দীর্ঘ বক্তব্যে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরলেও সেখানে বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এমনকি বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গও বক্তব্যে না আসায় উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের দানা বাঁধে।

ইউএনও’র বক্তব্য চলাকালেই মহেশপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। অনুষ্ঠান বর্জন শেষে মহেশপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা প্রশাসনের আমন্ত্রণে সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ইউএনও তার স্বাগত বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার নাম একবারও উচ্চারণ করেননি। তিনি মূলত একটি বিশেষ পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। ইতিহাসের এই নির্লজ্জ অবমাননা আমরা মেনে নিতে পারি না।”

ইউএনও’র বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্ক নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় ঝিনাইদহ-মহেশপুর সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। তাদের প্রধান দাবি—তদন্দপূর্বক ইউএনও খাদিজা আক্তারকে দ্রুত প্রত্যাহার করা।

জাতীয় দিবসের মতো একটি সংবেদনশীল দিনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে এমন বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, জাতীয় বীরদের নাম বাদ দেওয়া বা ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়। বর্তমানে মহেশপুর উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।