নিজেও হয়েছিলেন ঘুষের শিকার: ভূমি দস্যু ও দুর্নীতিবাজদের ‘জল-জেল’ আল্টিমেটাম দিলেন এমপি জাহান্দার

0
নিজেও হয়েছিলেন ঘুষের শিকার: ভূমি দস্যু ও দুর্নীতিবাজদের ‘জল-জেল’ আল্টিমেটাম দিলেন এমপি জাহান্দার

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতির জগদ্দল পাথর সরাতে এবার এক অভিনব ও সাহসী সত্য প্রকাশ করলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়া। নিজের জমির নামজারি (মিউটেশন) করতে গিয়ে একসময় তাকেও ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল—এমন বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এখন থেকে দুর্নীতির ঠাঁই হবে হয় ‘কারাগার’, নয়তো ‘পানির নিচে’।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুরে এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া এদিন অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ভাষায় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জমির নামজারি করতে গিয়ে আমার মতো মানুষের কাছ থেকেও একসময় ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কত গভীর, তা আমি অনুধাবন করি। আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, কোনো টালবাহানা চলবে না—তিন দিনের মধ্যে মিউটেশন সম্পন্ন করতে হবে। কেউ যদি অর্থের বিনিময়ে কাজ করার চেষ্টা করে, তবে তার ঠিকানা হবে জেলখানা, না হয় পানির অতলে।”

শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা নয়, নিজের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যেও কড়া বার্তা দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি মনে করিয়ে দেন “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রেতাত্মা যেন আমাদের ওপর ভর না করে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা কিশোর গ্যাং লালন-পালন করা চলবে না। মাদারীপুরের মাটিতে কোনো ভূমিদস্যুর জায়গা হবে না।”

সাবেক সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত দিনে জনগণের সাথে শুধু প্রতারণাই করা হয়েছে, যার প্রমাণ জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট ও মৃতপ্রায় খালগুলো। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সারা দেশে বিএনপি সরকারের গৃহীত ‘খাল খনন’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণের তাগিদ দেন।

পেয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শওকত ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী, সোহেল আহমেদ বাদলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।