সাইফুল ইসলামঃ বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজিব শেখ (২৫) নামের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। সংঘর্ষ-পরবর্তী হামলা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগে অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি ও দোকানপাট এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি চিংগড়ী গ্রামে চলে এই তাণ্ডব। শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি। সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইটের টুকরো। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি থেকে তখনও বেরোচ্ছিল পোড়া গন্ধ। শেখ বংশের কয়েক ডজন ঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুতল ভবনগুলোও রক্ষা পায়নি হামলাকারীদের হাত থেকে; লুট করা হয়েছে অলঙ্কার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে নিস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবককে মাছ ধরার দেশীয় অস্ত্র ‘ফুলকুচি’ দিয়ে আঘাত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ যখন একপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যস্ত ছিল, সেই সুযোগে প্রতিপক্ষ সাইদ বিশ্বাস ও সোহাগ মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক পেট্রোল ও বিটুমিন ঢেলে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি একটি পরিবারের জমানো ধান ও গৃহপালিত পশুপাখিও জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। আবারও হামলার আশঙ্কায় বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা ভ্যান ও ট্রাকে করে তাদের মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। পঙ্গু স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সংঘর্ষের কারণে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় অগ্নিনির্বাপক দল সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। পরে চারটি ইউনিটের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

