মার্কিন দম্ভে ইরানের চরম আঘাত: ফের ভূপাতিত অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫’, মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা

0
মার্কিন দম্ভে ইরানের চরম আঘাত: ফের ভূপাতিত অত্যাধুনিক 'এফ-৩৫', মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব ও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ‘এফ-৩৫’ (F-35) স্টিলথ ফাইটারকে ফের ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া দ্বিতীয় মার্কিন রণতরী।

আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের দাবি অনুযায়ী, মধ্য ইরানের আকাশে অনুপ্রবেশের সময় তাদের নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটিকে ধ্বংস করা হয়।

ভূপাতিত বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর বিখ্যাত ‘লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের’ অংশ ছিল। মাঝ আকাশেই বিমানটি নিখুঁত নিশানায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং এর ধ্বংসাবশেষ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাইলটের জীবিত থাকা বা বন্দি হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত ধোঁয়াশা কাটেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর সম্ভাব্য হামলার চেষ্টার পর থেকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বা সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে কোনো মন্তব্য না এলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ‘মহাযুদ্ধের দামামা’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে আকাশসীমার লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন স্থলভাগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন আক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাক ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃষ্টির মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে।

ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই সশস্ত্র জোটটি গত এক দিনে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে রেকর্ড ২৩টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে তারা। সারায়া আউলিয়া আল-দাম এই গোষ্ঠীটি গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫টি সফল হামলার দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট আক্রমণ প্রমাণ করে যে তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। মূলত ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন জোটের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ ধরেই এই ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের মধ্যে বর্তমানে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কড়া হুশিয়ারি—অঞ্চলটি থেকে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অপারেশন থামবে না।

বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটনের দিকে; এই বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমীকরণ।

সূত্র: আল জাজিরা, তসনিম নিউজ ও আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা।