গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১১) ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে দুধ নিয়ে ফেরার পথে বর্বরোচিত এই হামলার শিকার হয় শিশুটি। বর্তমানে সে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় শিশুটি তার প্রতিবেশী একটি বাড়ি থেকে দুধ নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পথে স্থানীয় যুবক রিফাত (১৯) ওত পেতে থাকে। শিশুটি নির্জন পথ অতিক্রম করার সময় রিফাত তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে চাকুর ভয় দেখিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের সময় শিশুটির গগনবিদারী চিৎকার শুনে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তারা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির কুমার ঘোষ জানান, “শিশুটিকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে একমাত্র আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেফতার করতে তৎপর রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে রিফাত তার পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে শিশুটি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

