রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত কৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
নিজের অপরাধ আড়াল করতেই তিনি বিভিন্ন দপ্তর ও গনমাধ্যমে ভুল তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করাচ্ছেন অভিযুক্ত রফিকুল বারী। সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান গত ২৩ মার্চ অবসরে যান। ২০২৪ সালের পরিপত্র এবং ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ঈসা খাঁনকে ২৪ মার্চ ম্যানেজিং কমিটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করেন। সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান জানান, বৈধ প্রক্রিয়ায় ঈসা খাঁনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারী ও কয়েকজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।্য়ঁড়ঃ; সহকারী প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রফিকুল বারী যোগদানের পর থেকেই ছিলেন বেপরোয়া।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, রফিকুল বাড়ি সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর হইতে একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়াসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য শিক্ষকের দালালি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ক্লাস ফাঁকি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গত ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকায় বিধি অনুযায়ী গত ৭ মার্চ ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়। যা ১৪ মার্চের সভায় কার্যকর করা হয়।
অন্যদিকে, অপর সিনিয়র শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের মামলায় হাজতবাস তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর চারজন ব্যক্তিকে বাদী সাজিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগে স্বাক্ষর থাকা লিমন তোকদার, পরিতোষ বর্মন ও আতাউর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে, আমার প্রধান শিক্ষকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে কৃষি অফিসে তিন দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছিলাম, পরবর্তীতে তিনি আমাকে দুইটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর তৃতীয়টি না দিয়েই আমাকে সাময়িক দরখাস্ত করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি কোন দালালি করি না আমার কোন অনিয়ম নেই, আমি স্কুলে নিয়মিত যাতায়াত করি আমি একাডেমিক সাইট দেখাশোনা করি।
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম (ইসলাম ধর্ম) বলেন, আমার নামে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা! কারাবরণ ও শিক্ষা সনদের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন এটি মিমাংসিত বিষয়, আপনি এটা নিয়ে কথা বলতে পারেন না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঈসা খাঁন বলেন, ্য়ঁড়ঃ;আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছি। কিন্তু রফিকুল বারী আমার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভুয়া অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হক খাঁন জানান, বিধি অনুযায়ী বরখাস্ত অবস্থায় রফিকুল বারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।

