বাংলাদেশ প্রতিবেদক্: রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক আনছার আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা নন। এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা।
এদিকে গতবছর কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো আনছার আলীকে আহবায়ক করে ১১ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি করে রংপুর ইউনিটে পাঠানো হয়। এর পর গতবছরই একুশ সেপ্টেম্বর রংপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোহাম্মদ কাঞ্চন আলী পিতা মীর মোহাম্মদ মোতাহার আলী মুক্তিযোদ্ধা নং০১৮৫০০০১৫৪০ গেজেট নং ৮৫ ভারতীয় তালিকা নং–৪৫৮৯৯–আনছার আলী যার গেজেট নং–১২৮৫-/২০২৩ বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।
তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তাহলো আনছার আলী ২০০৫ সালে রংপুর সদর টিএনও অফিসে যাচাই বাছাই কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমান করতে ব্যর্থ হন। আনছার আলী পুনরায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে ২০১৭ সালে আবেদন করেন যার জিডি নং-২০৮৫০৭। এরপর ওই আবেদনে প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রংপুর যাচাই বাছাই কমিটির বোর্ডে সম্মুখিন হননি। পরে জামুকায় আপীল করে রংপুর বিভাগীয় সদস্য মোতাহার হোসেন এমপিকে ম্যানেজ করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ২০২৩ সালে গেজেট ভুক্ত হন । প্রকৃতপক্ষে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।
এই অভিযোগ প্রাপ্তির পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে সহকারী পরিচালক উন্নয়ন মো: আব্দুল খালেক স্বাক্ষরিত অভিযোগ তদন্তের নোটিশ পাঠিয়েছেন অভিযুক্ত আনছার আলী এবং অভিযোগকারী মীর মোহাম্মদ কাঞ্চন আলীর নিকট। তদন্তের নোটিশে বলা হয়েছিলো বাইশ এপ্রিল সকাল দশটায় জামুকা সম্মেলন কক্ষে উভয় পক্ষের সাক্ষি সহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কিন্ত অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা মীর কাঞ্চণ আলী সহ সফিউল আলম,মুক্তিযোদ্ধা সমসের আলী এবং মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুল ইসলাম এই তিন জন সাক্ষি সহ জামুকায় উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত আনছার আলী উপস্থিত হননি।
এদিকে রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে একটি কথাই উচ্চারিত হচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী যখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত করনে ব্যাস্ত ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক মো: আনছার আলী ভুয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে রংপুর ইউনিট কমান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

