বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ মাতৃত্বের অপার আনন্দ আর দাখিল পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ—দুটিই সামলালেন ১৬ বছরের কিশোরী তাসমিয়া আক্তার। ভোরের আলো ফুটতেই ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জননী হলেন, আর বেলা বাড়তেই কলম হাতে বসে পড়লেন পরীক্ষার টেবিলে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এমনই এক বিরল ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই লড়াকু পরীক্ষার্থী।
শরণখোলার রাজৈর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক অভাবনীয় মানসিক শক্তির পরিচয় দেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই তার প্রসববেদনা শুরু হয়। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে ভোর ৬টার দিকে স্বাভাবিকভাবে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। হাসপাতালের বিছানায় যখন সবাই তার বিশ্রামের কথা ভাবছিলেন, তাসমিয়া তখন অটল ছিলেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে। প্রসবের মাত্র ৪ ঘণ্টা পর গণিত পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে হাজির হয়ে শিক্ষক ও সহপাঠীদের চমকে দেন তিনি।
উপজেলার দ্বীপচর গ্রামের নুরুল ইসলাম আকনের মেয়ে তাসমিয়ার বিয়ে হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। একই এলাকার আল মামুন হাওলাদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরও পড়াশোনার প্রতি তার টান কমেনি। শ্বশুরবাড়ির উৎসাহে তিনি দাখিল পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
তাসমিয়ার এই অদম্য স্পৃহা দেখে মুগ্ধ সংশ্লিষ্ট সকলে। রাজৈর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জলিল বলেন “সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টার মাথায় গণিতের মতো কঠিন বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মন্ডল নিজেই পরীক্ষার্থীর খোঁজ নিয়েছেন। তিনি জানান, তাসমিয়াকে প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে।
প্রথম দিন গণিত এবং পরবর্তী দিনগুলোতে বাংলাসহ প্রতিটি পরীক্ষায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তাসমিয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবজাতক ও মা দুজনেই সুস্থ আছেন। শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সব কটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে বদ্ধপরিকর এই খুদে মা।

