বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে গভীর রাতে বোরকা পরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ওই অধিদপ্তরের মাস্টার রোলে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। অগ্নিকাণ্ডে কয়েকশ ল্যাপটপ ভস্মীভূত হয়েছে এবং অনেকগুলো নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায়, অপরাধীরা বোরকা পরে ছদ্মবেশে স্টোর রুমে প্রবেশ করে নাশকতামূলক এই অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
অধিদপ্তরের স্টোর রুমে মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ সংরক্ষিত ছিল। আগুনের পর সেগুলোর বর্তমান অবস্থা , পুরোপুরি ভস্মীভূত ১৪০টি ল্যাপটপ। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ২৯টি ল্যাপটপ। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩টি ল্যাপটপ। ৮৩টি ল্যাপটপ (এগুলো চুরি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ), ৪৫০টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন আসমাউল ইসলাম, তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজে সরাসরি স্টোর রুমে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস, হুমায়ুন কবির খান
শনিবার বিকেলে মিরপুর-২ এবং শিক্ষা অধিদপ্তর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার ভয়াবহতা শুনে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী তাদের সঙ্গে ছিলেন।
সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। তিনি অবিলম্বে ঘটনা তদন্তে সচিবকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ড কেবল দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে ল্যাপটপ চুরির তথ্য আড়াল করার কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

