কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের রামুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে একটি সশস্ত্র ডাকাত চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের চিহ্নিত ডাকাত আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং ডাকাতি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মঙ্গলবার ভোরে বড় ধলিরছড়া এলাকায় ডাকাত আমির হোসেনের বাড়িতে একদল অপরাধী ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০-১৫ জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশি (মূল হোতা), হেলাল উদ্দিন, আবুল কাশেম, মো. আলমগীর, শফিউল করিম, সুবাস প্রকাশ শুভ রাজ, শেফায়েত নুর
আটকের পর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রীতিমতো একটি মিনি অস্ত্র কারখানা ও সরঞ্জামাদির খোঁজ পায়। উদ্ধারকৃত জিনিসের তালিকায় রয়েছে ১টি দেশীয় বন্দুক, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫টি গুলির খালি খোসা এবং ৯টি চকলেট বোমা। ৩টি কিরিচ ও ১টি চাইনিজ কুড়াল। ৫টি অস্ত্র তৈরির নকশা, গ্রান্ডিং মেশিন, স্লাইস রেঞ্জ, স্ক্রু ড্রাইভার, প্লায়ার্স, হাতুড়ি, আরি ব্লেড, রেত, বাটাল ও কাটিং প্লাস। ৮৫টি শিশা, লোহার রড, পাইপ, কোরবারী ও টুল বক্স।
ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি রামুর দুর্গম এলাকাগুলোতে ছিনতাই ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছিল। আটক আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশি একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। সে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে। অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একাধিক অপরাধের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

