ছাতকে পাওনা টাকা নিয়ে রণক্ষেত্র: এমপি কামরুলসহ আহত ৫০, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরুদ্ধ

0
ছাতকে পাওনা টাকা নিয়ে রণক্ষেত্র: এমপি কামরুলসহ আহত ৫০, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরুদ্ধ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুজ্জামান কামরুল। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার জাউয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাউয়া কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী একই এলাকার খিদ্রাখাপন গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়ার কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

টাকা ফেরত না পাওয়ায় কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ আলী পাওনাদারকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে জাউয়া বাজারে মোহাম্মদ আলীকে মারধর করেন আখলুছ মিয়ার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ আলীর লোকজন পাল্টা আক্রমণ চালালে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবারের রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে দুই পক্ষ জাউয়া বাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটবৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। স্থানীয়দের দাবি, সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিলেও শুরুতে পুলিশ বা অন্য কেউ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হচ্ছিল না। এ সময় এমপি কামরুল নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দুই পক্ষের মাঝখানে গিয়ে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে এমপি নিজেও আহত হন। তবে তার এই সাহসী হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। পরে তার ফেসবুক পেজ থেকেও তার আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে রোগী ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন “ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পুনরায় সংঘাত এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”