ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোড়া ছররা বন্দুকের গুলিতে এক কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন—কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মোরছালিন (২০) এবং একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।
বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রায় ১৫ জনের একটি বাংলাদেশি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের গতিরোধ করে।
বিজিবির দাবি, এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি ওই দলটির ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ করলে মোরছালিন ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন।
আহত দুজনকে উদ্ধার করে ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম জানান, “বিএসএফের গুলিতে দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের (ফ্ল্যাগ মিটিং) মাধ্যমে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রটেস্ট নোট পাঠিয়েছি।”
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত মোরছালিন একজন কলেজ শিক্ষার্থী ছিলেন। বিজিবি বিষয়টি নিয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে সীমান্তে বিএসএফের এই প্রাণঘাতী মরণাস্ত্র বা ছররা বন্দুক ব্যবহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

