
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই বেআইনিভাবে প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এই অভিযোগকে ‘প্রশাসনিক অজ্ঞতা’ ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে সংশ্লিষ্ট ফাইলটি জনসমক্ষে প্রকাশের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক উপদেষ্টার ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভেতরে-বাইরে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে গুরুতর এই অভিযোগ তোলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি মেগা প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট সচিবের সই ছাড়াই ফাইল পাস করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রশাসনিক রীতিনীতির পরিপন্থী।”
একই সঙ্গে পিরোজপুর জেলার একটি বড় প্রকল্পের অর্থ লোপাটের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে ওই প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই হরিলুটের কারণে গত ১৮ মাস ধরে পিরোজপুরের সব উন্নয়ন স্থবির হয়ে আছে। তবে সরকার দ্রুততম সময়ে কাজ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিগত আমলের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন অভিযোগের পর পরই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি বলেন, “যারা এই অভিযোগ তুলছেন, সরকারের কার্যপ্রণালি বিধি বা ‘রুলস অব বিজনেস’ সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম ধারণাটুকুও নেই।”
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “কোনো ফাইল সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া বা তার টেবিল না ঘুরে উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রীর টেবিলে আসাই সম্ভব না। সচিব যদি কোনো কারণে ছুটিতে থাকেন, তবে বিধি অনুযায়ী অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সিনিয়র সচিবের অনুমোদন নিয়েই ফাইল আসে। উপদেষ্টা শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। একে ‘সচিবের অগোচরে ফাইল পাস’ বলা প্রশাসনিক অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
প্রতিমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট ফাইলটি জনসমক্ষে প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আপনি ওই ফাইলটি শেয়ার করুন, যেখানে আসিফ মাহমুদ বেআইনিভাবে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশের মানুষের জানার অধিকার আছে যদি আমি কোনো অনিয়ম করে থাকি। প্রয়োজনে কোনো থার্ড পার্টি টিভি চ্যানেলে ওই ফাইল নিয়ে আমার সাথে টক শোতে বসুন।”
পিরোজপুরের ৬ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, এই দুর্নীতিটি অন্য কেউ নয়, বরং তাঁর মেয়াদে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমেই উদঘাটিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরাই তদন্ত করে দুর্নীতির সঠিক টাকার পরিমাণসহ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানিয়েছিলাম। এখন সেটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এদিকে আওয়ামী লীগ শাসনআমল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে সংঘটিত সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সরকার একটি সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
