খালা-খালুর আশ্রয়ে থাকা এতিম শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: লম্পট খালু আলমগীর মৌলভী গ্রেপ্তার

0
খালা-খালুর আশ্রয়ে থাকা এতিম শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: লম্পট খালু আলমগীর মৌলভী গ্রেপ্তার

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলীতে পারিবারিক বিশ্বাস ও সম্পর্কের চরম অবক্ষয়ের এক জঘন্য চিত্র সামনে এসেছে। নিজ খালা ও খালুর আশ্রয়ে থাকা এক অসহায় এতিম শিশুকে (৯) ছুরির মুখে জিম্মি করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আপন খালুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযুক্ত লম্পট খালু আলমগীর মৌলভীকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত সোমবার (১৮ মে) উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে শনিবার (২৩ মে) রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর মৌলভী রায়বালা এলাকার মৃত নুর সেনের ছেলে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবা হারা অসহায় শিশুটি কুকুয়া রায়বালা গ্রামে তার খালা ও খালু আলমগীর মৌলভীর বাড়িতেই থাকত। তারা সবাই একই ঘরে পৃথক বিছানায় ঘুমাত। গত সোমবার (১৮ মে) সকালে খালার অনুপস্থিতিতে ঘরে একা পেয়ে শিশুটির বিছানায় চড়াও হয় আলমগীর মৌলভী। সে প্রথমে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়।

শিশুটি সম্ভ্রম বাঁচাতে ও যন্ত্রণায় চিৎকার করতে চাইলে লম্পট আলমগীর তার মুখ চেপে ধরে। পরে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধারালো চাকু বের করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অবুঝ শিশুটি ভয়ে নিস্তব্ধ হয়ে পড়লে আলমগীর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও প্রাণভয়ে শিশুটি কয়েকদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও গত শনিবার রাতে প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

শনিবার গভীর রাতেই স্বজনরা আমতলী থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে রায়বালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আলমগীর মৌলভীকে তার ঘর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদত মো. হাসনাইন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর মৌলভীকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”