হরিণাকুণ্ডুতে মোটরসাইকেলের হর্ন নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত: চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষকের মৃত্যু, আহত ৮

0
হরিণাকুণ্ডুতে মোটরসাইকেলের হর্ন নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত: চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষকের মৃত্যু, আহত ৮

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঈদের দিনের তুচ্ছ বিবাদ রূপ নিলো প্রাণঘাতী সহিংসতায়। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এই রণক্ষেত্রে দুুপক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলোয়ার। তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের খয়বার মণ্ডলের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বিকেলে হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। হর্ন দেওয়া নিয়ে পার্শ্ববর্তী পাখিমারা গ্রামের লাল্টু মিয়ার সঙ্গে হরিশপুর গ্রামের শুভ হোসেনের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।

ঈদের দিনে তরুণদের এই ব্যক্তিগত বিরোধ দ্রুতই সামাজিক ও গ্রাম্য রূপ নেয়। ঘটনার জেরে রাতে দুই গ্রামের লাঠিয়াল ও উৎসুক জনতা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও আবু তালেব এবং পাখিমারা গ্রামের মশা ফকির, মাহবুব ও বাদশাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন গুরুতর জখম হন।

স্থানীয়রা দ্রুত রক্তাক্তদের উদ্ধার করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দেলোয়ার হোসেন ও আবু তালেবের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলোয়ারকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং আবু তালেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করেন। এরপর আজ শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেলোয়ার।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান “মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোর মতো একটি সামান্য বিষয় নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।”

ওসি আরও জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অকাল এই মৃত্যুতে পুরো হরিশপুর গ্রামে এখন ঈদের আনন্দের বদলে মাতম চলছে।