আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস নয়-রংপুর মেট্রো কমিশনার আবদুল মাবুদ

0
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস নয়-রংপুর মেট্রো কমিশনার আবদুল মাবুদ

জয়নাল আবেদীন: রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে আরপিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তি নির্ভর অভিযান আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন ।তিনি মামলার দ্রুত তদন্ত, ওয়ারেন্ট তামিল বৃদ্ধি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, ফিটনেসবিহীন ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগরী গড়ে তুলতে ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্যকে নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।সভায় জানানো হয় গত জুন মাসে দায়ের হওয়া ১শ৫৬টি মামলায় ১শ৫০ জনকে শ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৬০টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৪৮ জন। এ ছাড়া নন-এফআইআর মামলা অর্থাৎ আমলযোগ্য নয়, এমন ১শ১০টি মামলায় ১শ৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।জুন মাসে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে নেশাজাতীয় এক দশমিক ১শ১৪ কেজি গাঁজা, ৯শ৮৭ পিস ইয়াবা, ২২ গ্রাম হেরোইন, ৩৩ পিস ট্যাপেন্ডল, ও ১৬ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে। এসবের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩১ হাজার ১শ৪০ টাকা। এ ছাড়া দুটি অটোরিকশা, দুটি মোটরসাইকেল ও চুরি হওয়া ইলেকট্রিক তার উদ্ধার করেছে।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অনলাইন জুয়া, অনৈতিক ডিজিটাল কার্যক্রম এবং দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রযোজনীয় মোবাইল ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। মাদক-সংক্রান্ত কোনো কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত যে কারও বিরুদ্ধে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন জোনের এসি, ওসি উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকালে পুলিশের মাসিক কল্যণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।