পদত্যাগের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: বঙ্গভবনের স্টাফদের বিদায়ের প্রস্তুতি

0
পদত্যাগের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: বঙ্গভবনের স্টাফদের বিদায়ের প্রস্তুতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই বঙ্গভবনের অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শিগগিরই কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় বিদেশে যেতে পারেন।

এর আগে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই গুঞ্জন চাউর হলেও, সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে তার পদত্যাগের বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নিজেই শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন—‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।’

২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ না করায় তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। সরকারের সাথে দূরত্ব তৈরির বিষয়টি এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

‘ভালো লাগে না’ ক্ষোভ ও ক্ষোভের কারণ: এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন শেষে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘আমার ভালো লাগে না।’ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে কোণঠাসা করে রাখা, কূটনৈতিক মিশন থেকে ছবি অপসারণ এবং প্রেস উইং ছোট করে দেওয়ার ঘটনায় তিনি চরম অপমানবোধ করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ । মে ২০২৬: কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের পর হৃদযন্ত্রের ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে একটি স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়। অক্টোবর ২০২৩: সিঙ্গাপুরে তার ওপেন হার্ট (কার্ডিয়াক বাইপাস) সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ খালি হলে পরবর্তী ধাপে যে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হবে:

সংবিধানের নির্দেশনা: ৫০(৩) অনুচ্ছেদ: স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারবেন। ৫৪ অনুচ্ছেদ: পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ১২৩(২) অনুচ্ছেদ: পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সংকটে সময়ের আগেই শেষ হতে চলেছে তার বঙ্গভবন অধ্যায়। বর্তমানে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি থাকবে তাদের হাতেই।