মোদির ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আশ্বাসও ব্যর্থ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় সিজেপি

0
মোদির ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আশ্বাসও ব্যর্থ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় সিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রবেশিকা (মেডিকেল) পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ আশ্বাস সত্ত্বেও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও আন্দোলনকারীরা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় অবস্থান নিয়েছে।

গত বুধবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতের পর থেকে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী চড়াও হলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার ২ জন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৬ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই তারা বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানান, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে মোদির এই পদক্ষেপে একদমই আশ্বস্ত নয় আন্দোলনকারী সিজেপি। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে চরম কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদচ্যুত না করে মোদি যেন পুরো দিল্লি শহরই স্তব্ধ ও বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত!”

একইসঙ্গে অভিজিৎ দীপকে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত এক মাস যাবৎ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। আন্দোলন বিশাল আকার ধারণ করায় বিজেপি ইচ্ছা করে উসকানি দিতে এবং আন্দোলন ভণ্ডুল করতে বাইরে থেকে লোক পাঠাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় মাঠে নামেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মোদির তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পেছনে খোদ প্রধানমন্ত্রীই দায়ী।

আন্দোলনকারীদের ৩ মূল দাবি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও পদত্যাগ করতে হবে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে কেন্দ্রকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। আন্দোলনে হামলাকারী ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দিল্লির উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির জেরে বৃহস্পতিবার সকালেও বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী নতুন করে যন্তর মন্তরে জটলা বেঁধেছেন। দ্রুতই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না এলে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এই আন্দোলন বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।