মাদক খুঁজতে গিয়ে উল্টো পুলিশই তল্লাশির মুখে! মেহেরপুরে অভূতপূর্ব অভিযান, গ্রেফতার ৫

0
মাদক খুঁজতে গিয়ে উল্টো পুলিশই তল্লাশির মুখে! মেহেরপুরে অভূতপূর্ব অভিযান, গ্রেফতার ৫

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজিপুর গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রামে মাদক কারবারিদের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলে উল্টো পুলিশ সদস্যদের শরীর তল্লাশি করার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা হাসিমুখেই তাতে সম্মতি দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে নিজেদের দেহ তল্লাশি করিয়ে তবেই উদ্ধার অভিযানে নামেন তারা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে মেহেরপুর জেলা পুলিশ, গাংনী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল ওই সীমান্তবর্তী গ্রামে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গোটা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

কোনো ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অভিযানে পুলিশের শতভাগ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মূলত তল্লাশির অনুরোধ জানান স্থানীয়রা। জনগণের সেই দাবিতে সাড়া দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সাঈদ উপস্থিত লোকজনের সামনে অভিযানকারী দলের প্রতিটি সদস্যের শরীর পরীক্ষা করেন।

পুলিশ নিজেদের দেহ তল্লাশি করানোর পর গ্রামবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে কাজিপুর গ্রামে শুরু হয় চিরুনি অভিযান। টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে এই মাদকবিরোধী অপারেশন। দীর্ঘ তল্লাশি শেষে এলাকা থেকে চার কেজি গাঁজা এবং ১০ পিস ইয়াবাসহ ১ নারী ও ৪ পুরুষকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সুসংগঠিতভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আস্তানায় হানা দেওয়া হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, ফজলু (৪৫) — পিতা: বজলুর রহমান, গ্রাম: কাজিপুর। ফজলু (৬৫) — পিতা: ইয়াদ আলী, গ্রাম: কাজিপুর। রানা (২১) — গ্রাম: কাজিপুর। তানজিরা খাতুন (৫৪) — স্বামী: ফজলু, গ্রাম: কাজিপুর (তাঁর বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়)। জাহিদ (২৮) — পিতা: তাজউদ্দিন, গ্রাম: নাটনাপাড়া, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)।

অভিযানকালে ওই এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শিপনের বাড়ি ঘেঁষে অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসীর মতে, অতীতে ভুল বোঝাবুঝি বা কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে তারা অভিযান শুরু হওয়ার আগে পুলিশকে শরীর তল্লাশির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পুলিশের এমন নমনীয় ও পেশাদার আচরণে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। জনগণের আস্থা বজায় রেখে অভিযান পরিচালনায় পুলিশ সব সময় প্রস্তুত। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিচারকের কাছে পাঠানো হচ্ছে।”