প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার ডাক: ইউএনওদের দায়িত্বশীল ও মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার ডাক: ইউএনওদের দায়িত্বশীল ও মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেশের প্রতিটি মানুষকে আপনজন মনে করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ এক অনবদ্য আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। শনিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকার ও জনগণের মধ্যকার মূল সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন, সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন এক দেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি, যেখানে সবাই ভালো থাকবে।”

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নিষ্ঠুরতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পশুপাখির প্রতি ভালোবাসার পাঠ যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উপজেলা ও পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে ইউএনওদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেবল জাতীয় দিবসের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় যেকোনো উপলক্ষে খেলাধুলার আয়োজন করে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শুধু আইন প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিভিন্ন উপজেলার খাল খনন কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের এই উদ্যোগকে সরকার ও জনগণের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।

ইউএনওরা জানান, খাল পুনর্খননের ফলে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এসেছে—যেসব জমিতে আগে দুটি ফসল হতো, সেখানে এখন তিনটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতে ও নদীমাতৃক রূপ ফিরিয়ে আনতে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচসুবিধা বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।

খাল খনন প্রকল্পের অর্থ সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া ৮৩টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি, মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।