চিকিৎসার প্রলোভনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: নারীসহ গ্রেপ্তার ২, মূল অভিযুক্ত অধরা

0
চিকিৎসার প্রলোভনে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: নারীসহ গ্রেপ্তার ২, মূল অভিযুক্ত অধরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ চিকিৎসা করিয়ে দেওয়ার নামে খুলনার কয়রা থেকে সাতক্ষীরার তালায় ডেকে এনে এক গৃহবধূকে (৪০) চেতনানাশক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ শিপ্রা ও অনুপ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও অভিযুক্ত রাজু এখনো পলাতক রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) পুলিশ পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা থেকে ওই নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হয়। রাজু নামে এক যুবক, যিনি নিজেকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, তাকে সাতক্ষীরা সদরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় “ডাক্তার পাওয়া যাবে না” অজুহাতে রাজু গৃহবধূকে কৌশলে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে বাসায় অবস্থানরত শিপ্রা নামে এক নারীর সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো হয়। খাবার খেয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজু প্রথম দফায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত নারী তাকে গালিগালাজ করেন এবং গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে রাজু এবং অনুপ নামে অপর এক যুবক রাতভর তাকে দফায় দফায় ধর্ষণ করেন।

শুক্রবার সকালে গৃহবধূ কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে এক আত্মীয়ের সহায়তায় তালা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবারই দুই যুবক (রাজু ও অনুপ) এবং এক নারীর (শিপ্রা) বিরুদ্ধে তালা থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার পাইকগাছার কপিলমুনিতে অভিযান চালিয়ে শিপ্রা ও অনুপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। |

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং পলাতক মূল আসামি রাজুকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।