শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ ইস্যু: রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নয়, আদালতেই নিষ্পত্তি হবে জানিয়েছে ভারত

0
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ ইস্যু: রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নয়, আদালতেই নিষ্পত্তি হবে জানিয়েছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার অব্যাহত চাপের মুখে ভারত সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; এটি ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হতে হবে।

অনলাইন ভারতীয় গণমাধ্যম [দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের The Indian Express) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, যেকোনো প্রত্যর্পণ আবেদন সে দেশের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক যাচাই বা পর্যালোচনা করতে হয়। শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার বিচারিক প্রক্রিয়ার রয়েছে।

ভারতের বিচার বিভাগ দেখবে—বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনাকে যে অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে পারে। তিনি যদি অপরাধের পর্যাপ্ত ভিত্তি দেখতে পান, তবেই সুপারিশ করবেন; অন্যথায় আবেদন খারিজ হতে পারে।

২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বিচারিক সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক অপরাধ এর আওতামুক্ত হলেও হত্যা ও নরহত্যার মতো বিষয়গুলো অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত।

ঢাকা মনে করে, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য প্রতিকূল। তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের এজেন্ডাতেও এই প্রত্যর্পণ ইস্যুটিই প্রাধান্য পাচ্ছে।

বাংলাদেশ যেভাবে অত্যন্ত কঠোর বা চরম অবস্থান (Extreme Position) নিয়েছে, তা থেকে ঢাকা-নয়াদিল্লি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বজায় রাখার মাধ্যমে মাঝপথের কোনো সমঝোতায় আসা যায় কি না, সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতীয় কূটনীতিকরা।

এদিকে, নয়া দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট এক ভার্চ্যুয়াল প্রেস কনফারেন্সে চলতি বছরের বিজয় উৎসবের মাস ডিসেম্বরেই নিজ দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের আইনি পদক্ষেপের মুখে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলার মতো দৈনন্দিন গতিবিধির খবর প্রকাশ পাওয়ায় ঢাকার অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।