সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি: ‘জনগণের সমর্থনে সুশাসন ও স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে সরকার’—মাহদী আমিন

0
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি: ‘জনগণের সমর্থনে সুশাসন ও স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে সরকার’—মাহদী আমিন

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন (ছয় মাস) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সরকারের বিগত দিনের অর্জন ও আগামী দিনের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনরায় নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শপথ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, “গত ছয় মাসের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের অটুট সমর্থন। বিগত নির্বাচনগুলোর অচলাবস্থা কাটিয়ে মানুষ মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে এই নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ভালোবাসা কতটা গভীর।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মুখপাত্র জানান মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত কাজ চলছে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা ছাড়াও দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা ছাড় করা হয়েছে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে পরীক্ষামূলকভাবে এআই (AI) ট্র্যাফিক সিস্টেমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি ঢাকার রাজপথে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালু করা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতা মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, স্বৈরাচারী শাসনামলের নানা অপকর্ম ও বহুল আলোচিত মামলার আইনি বিচার ত্বরান্বিত করা হচ্ছে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বখ্যাত বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করে ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মতবিনিময় সভা সমাপ্ত হয়।