অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় ভারত, তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ

0
অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় ভারত, তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের সাথে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী ভারত। পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় নতুন দিল্লি। একই সাথে বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের অনুরোধটি ভারত তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা ও প্রাপ্যতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করছে।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

বাংলাদেশ থেকে আসা অতিরিক্ত প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহের আবেদনের প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারত, তবে নিজেদের পরিশোধন সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ প্রাপ্যতা হিসাব-নিকাশ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিন্ন নদী রয়েছে। পানি সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনা বা সমস্যা সমাধান কেবল যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে ভারত সফরের জন্য একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা অগ্রগতির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে তা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শর্ত ও অনুরোধের বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন জয়সওয়াল। তিনি জানান, প্রত্যর্পণের যেকোনো আবেদন দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান আইনি ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বার্তা অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার সাথে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও জোরালো করতেই মনোযোগী নতুন দিল্লি।