সংবাদে উঠে এলো নয়নের অসহায়ত্ব, মানবিকতার হাত বাড়ালেন ইউএনও

0
সংবাদে উঠে এলো নয়নের অসহায়ত্ব, মানবিকতার হাত বাড়ালেন ইউএনও

তাহিরপুর প্রতিনিধি: কখনো কখনো একটি ছোট্ট দুর্ঘটনাই একটি শিশুর পুরো পৃথিবীকে অন্ধকার করে দেয়। পাঁচ বছরের নয়নের চোখে পড়েছিল গাছের সামান্য রস, আর সেই মুহূর্ত থেকেই যেন নিভে যায় তার পৃথিবীর আলো। আট বছর ধরে অন্ধকারে থাকা নয়নের জীবনে এবার তার অসহায়ত্বের গল্প হয়ে উঠেছে আশার বার্তা।

নয়ন মিয়া (১৩) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাটি জামালগড় গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল হক ও সর্জিনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়,প্রায় আট বছর আগে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় একটি গাছের আঠালো খস (রস) নয়নের দুই চোখে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেওয়া না হলেও কিছু সময় পর চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া ও ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হয়। তখন চিকিৎসক জানান,উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা প্রয়োজন।কিন্তু দিনমজুর বাবা-মায়ের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। অর্থের অভাবে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না হওয়ায় ধীরে ধীরে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে ফেলে নয়ন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ আট বছর।

আজ নয়নের পৃথিবী সীমাবদ্ধ ঘরের চার দেয়ালে। যে বয়সে সমবয়সীরা স্কুলে যায়,মাঠে খেলাধুলা করে, স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যৎ গড়ার—সেই বয়সে নয়ন অন্যের সহায়তা ছাড়া এক পা-ও চলতে পারে না। বাবা-মা দুজনই দিনমজুর। সংসারের চাকা সচল রাখতে প্রতিদিন তাদের কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক সময় নয়নকে একাই ঘরে থাকতে হয়। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় চলাফেরার সময় প্রায়ই হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। এমনকি টয়লেটে যাওয়ার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও তাকে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।

নয়নের এই অসহায় জীবন ও অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার খবর আরটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের।সংবাদটি নজরে আসার পর মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক। তিনি নয়ন ও তার পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে নয়নের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার অভাবে অসহায় হয়ে থাকা একটি পরিবারের পাশে প্রশাসনের দাঁড়ানোকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।তবে নয়নের চোখে আলো ফেরাতে প্রয়োজন আরও উন্নত চিকিৎসা। দীর্ঘ আট বছর আগে অর্থের অভাবে যে চিকিৎসা থেমে গিয়েছিল,এখন সেই চিকিৎসার পথ খুলে দিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি,মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নয়নের পরিবার ও স্থানীয়রা।

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে নয়নের চোখের আলো,দারিদ্র্য কেড়ে নিয়েছে চিকিৎসার সুযোগ। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে তার অন্ধকার জীবনে আজ অন্তত মানবিকতার আলো জ্বলেছে। এখন প্রয়োজন সেই আলোকে আরও বড় করে নয়নের জীবনে ফিরিয়ে আনার।