ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রটিতে শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, এতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানান, বছরে ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের হিসাব নির্ভর করবে বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে তার ওপর। গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শেষ পর্যায়ের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরবচ্ছিন্নভাবে বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লার আমদানি কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার প্রভাবও কমবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশনিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে দুটি ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড ও সঞ্চালনব্যবস্থার আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

