কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে গবাদিপশু বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় নারী বাদী মহিলা সংস্থা ভগ্নী নিবেদিতা মঞ্চ (বিএনএম) বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার আলতাপোল গ্রামের মো. আজিজুর রহমান গাজীর বাড়িতে এ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্থার সমন্বয়কারী মিসেস কল্যাণী দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপালী রানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্থার উপদেষ্টা মিসেস শিপ্রা মন্ডল। নির্বাহী পরিচালক মিসেস অন্তি ঘোষের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলার চারটি গ্রামের ছয়জন হতদরিদ্র নারীকে প্রত্যেককে একটি করে গবাদিপশু বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের হাতে গবাদিপশু তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপালী রানী বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে গবাদিপশু বিতরণের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু সহায়তা গ্রহণ করলেই হবে না, এর যথাযথ পরিচর্যা ও লালন-পালনের মাধ্যমে এটিকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। এতে নারীরা নিজেরাই আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া একটি পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থা নারীদের স্বাবলম্বী করতে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। এ ধরনের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি মিসেস শিপ্রা মন্ডল বলেন, হতদরিদ্র নারীদের হাতে উৎপাদনমুখী সম্পদ তুলে দেওয়া হলে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন। গবাদিপশু পালন একটি লাভজনক ও টেকসই আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড। তাই উপকারভোগীদের নিয়মিত যত্ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গবাদিপশুগুলো লালন-পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিসেস অন্তি ঘোষ বলেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। গবাদিপশু বিতরণের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ভবিষ্যতে নিজেরা আয় করার পাশাপাশি পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গবাদিপশু পেয়ে উপকারভোগী নারীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়। তারা জানান, এ সহযোগিতা তাদের পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। গবাদিপশু পালন করে আয় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেদের স্বাবলম্বী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উপকারভোগী নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার দে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জি.এম. মিন্টুও সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে কেশবপুরের চারটি গ্রামের হতদরিদ্র নারীদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিতরণ করা গবাদিপশু উপকারভোগী পরিবারগুলোর জন্য ভবিষ্যতে স্থায়ী আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

