ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পক্ষ নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে। অপর পক্ষ কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিরোধ যেকোনো সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ঘোষিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ-ঝাড়ু মিছিল, পথসভা ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে ঈশ্বরদীর খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল।
লিখিত বক্তব্যে ইসলাম হোসেন জুয়েল অভিযোগ করেন, গত ১৬ আগস্ট ঘোষিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত ও রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়ে ‘নিশিরাতে’ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে তারা ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার আগে জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের এবং সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে ব্যাংকসংক্রান্ত ও চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে ইসলাম হোসেন জুয়েল আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষিত কমিটি স্থগিত করে ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। অন্যথায় ঈশ্বরদীর সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ঈশ্বরদী রেলগেট থেকে শুরু হয়ে বাজারের ১ নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় পথসভা। পরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় আমিনুল ইসলাম স্বপন, আনোয়ার হোসেন জনি, জাকির হোসেন জুয়েল, আক্কাস আলী, আশিকুর রহমান নান্নু, শাহাবুদ্দিন সেন্টু, ইলিয়াস হোসেন এলবাস, জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মনিরুজ্জামান টুটুল ও মাহমুদুল হাসান ফুল জুয়েলসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

