প্রকৃতির বুকেই বিলাসের বাণিজ্য—টাঙ্গুয়ারের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

0
প্রকৃতির বুকেই বিলাসের বাণিজ্য—টাঙ্গুয়ারের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

আহম্মদ কবির: তাহিরপুর জলের বুকে নীল আকাশের প্রতিবিম্ব,মেঘের ভেলা, দূরের পাহাড় আর হিজল-করচের সবুজ—বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর যেন প্রকৃতির এক অনবদ্য শিল্পকর্ম। এই সৌন্দর্যের টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।পর্যটকের পদচারণায় বদলে গেছে হাওরপাড়ের অর্থনীতিও;তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান,ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ। কিন্তু সৌন্দর্যকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্য কতটা হাওরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর সুফলই বা কতটা পৌঁছাচ্ছে স্থানীয় মানুষের কাছে—সেই প্রশ্ন এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরকে সাধারণ কোনো পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ নেই।এটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন রামসার জলাভূমি। এর জলজ প্রতিবেশ,মাছ,পাখি, উদ্ভিদ ও হাওরনির্ভর মানুষের জীবন একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।ফলে এখানে পর্যটনের প্রসার মানেই শুধু নতুন ব্যবসার সুযোগ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি সংবেদনশীল প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ।একসময় টাঙ্গুয়ার ভ্রমণ ছিল মূলত ছোট নৌকায় হাওর ঘুরে দেখা,প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা।এখন সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাউসবোট পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। থাকার ব্যবস্থা,খাবার,চা,নাশতা থেকে শুরু করে নানা বিনোদন—সবকিছু একসঙ্গে পাওয়ার সুবিধা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পর্যটনসেবার এই আধুনিকায়নকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।বরং সঠিক পরিকল্পনায় এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা তখনই অর্থবহ হবে,যখন নতুন এই বাণিজ্যিক কাঠামোর সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীরও ন্যায্য অংশগ্রহণ থাকবে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,পর্যটনকেন্দ্রিক নৌযানের মালিক,চালক ও গাইডদের একটি বড় অংশ বহিরাগত।বাইরের উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী বৈধভাবে ব্যবসা করলেই সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখার কারণ নেই।নতুন পুঁজি,দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমে পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হতে পারে।সমস্যা তৈরি হয় তখন,যখন বড় ব্যবসায়িক কাঠামোর কারণে স্থানীয় নৌকার মালিক,মাঝি,গাইড ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের এলাকার পর্যটন অর্থনীতিতে তাঁরাই প্রান্তিক হয়ে যান।

এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায় হাওরপাড়ের ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনে। স্থানীয় ভাসমান চা বিক্রেতা রেনু মিয়া বলেন,আমরা হাওরে মাছ ধরা বাদ দিয়ে বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে টাঙ্গুয়ার হাওরে আসা পর্যটকদের কাছে চা-বিস্কুট বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু হাউসবোটগুলোতে চা,নাশতা ও খাবারের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকদের আমাদের কাছ থেকে চা-বিস্কুট কেনার আগ্রহ কমে গেছে। ফলে আমাদের আয়ও দিন দিন কমছে।রেনু মিয়ার এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই যে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয় বাড়বে,এমন নিশ্চয়তা নেই। পর্যটকের ব্যয়ের একটি বড় অংশ যদি নির্দিষ্ট সেবাকেন্দ্রিক প্যাকেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি হওয়া সম্ভাবনাটি বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে—সেটি নতুন করে ভাবার বিষয়।

স্থানীয় উদ্যোক্তা শিহাব বিন জাহাঙ্গীরের অভিজ্ঞতাও সেই প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে আসে।সিপ অব টাঙ্গুয়া’-এর এই উদ্যোক্তা বলেন, আমরা হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া দিয়ে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্লাস্টিকের বদলে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পাত্র ব্যবহার করছি। স্থানীয় তাজা মাছ,দেশীয় ফল ও ফলের জুস পরিবেশন করছি। কিন্তু বড় বড় বিলাসবহুল হাউসবোটগুলো তাদের ‘অল-ইন-ওয়ান’প্যাকেজে সব সেবা অন্তর্ভুক্ত রাখায় পর্যটকরা স্থানীয় বাজারে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে আমরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি এবং ছোট ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।এছাড়া এসব হাউসবোটের যত্রতত্র প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কারণে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা স্থানীয় উদ্যোক্তারা পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেও ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। হাওরের স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় অর্থনীতি বাঁচাতে হাউসবোট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।

শুধু ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নয়,স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটন উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টাও প্রতিযোগিতার চাপে পড়ছে। গোলাবাড়ি গ্রামের উদ্যোক্তা খসরুল আলম পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবিধার জন্য হাওর বিলাশ’নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলেছিলেন।শুরুতে মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল তাঁর ব্যবসা। কিন্তু আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাউসবোটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,হাওর বিলাশ’এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

এই অভিজ্ঞতাগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে—টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের বাজার তৈরি হয়েছে,কিন্তু সেই বাজারে স্থানীয় মানুষের অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়,তার সুস্পষ্ট কাঠামো এখন প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহলে ভাষ্যমতে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় স্থানীয় পরিবারকে যুক্ত করে হোমস্টে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। পর্যটকেরা সেখানে স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকেন,স্থানীয় খাবার খান এবং এলাকার সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানেন। ফলে একজন পর্যটকের ব্যয় শুধু একটি ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামের বিভিন্ন পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে ছড়িয়ে পড়ে।টাঙ্গুয়ারেও পরিবেশগত ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে এমন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।স্থানীয় পরিবারকে হোমস্টে পরিচালনার সুযোগ,তরুণদের প্রশিক্ষিত গাইড হিসেবে গড়ে তোলা,স্থানীয় নৌকার মালিকদের পর্যটনসেবায় যুক্ত করা এবং হাওর এলাকার মাছ,ফল,কৃষিপণ্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারকে পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হতে পারে।তবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে পরিবেশের প্রশ্নটি কোনোভাবেই আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ টাঙ্গুয়ারের পর্যটনের মূল আকর্ষণই তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।

তাদের ভাষ্যমতে একটি সংবেদনশীল জলাভূমিতে নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি,ইঞ্জিনের শব্দ,উচ্চ শব্দে গান,প্লাস্টিক,খাবারের প্যাকেট,রান্নার উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মাছের প্রজননক্ষেত্র,পাখির আবাসস্থল ও সংরক্ষণযোগ্য এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত চলাচল হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।তাই হাউসবোটকে শুধু পর্যটনসেবা হিসেবে নয়,একটি পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেও দেখতে হবে। প্রতিটি নৌযানের বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণ ব্যবস্থা, প্লাস্টিক ব্যবহার,শব্দ নিয়ন্ত্রণ,নোঙরের স্থান এবং যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পর্কে কার্যকর নিয়ম থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও বাধ্যতামূলক আচরণবিধি থাকা দরকার।

প্রবেশপথে লাল নিশানা,সতর্কতামূলক বিলবোর্ড কিংবা সচেতনতামূলক প্রচার নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর। কোথায় নৌযান যাবে,কোথায় যাবে না এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা স্পষ্ট থাকা দরকার।নৌকার চালক ও গাইডদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় তরুণদের দক্ষ করে তুললে তাঁরা একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও সংরক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখতে পারবেন।

টাঙ্গুয়ারের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন এমন একটি পর্যটন মডেল,যেখানে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগেরও জায়গা থাকবে। হাউসবোটে প্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় নৌকা,গাইড,হোমস্টে,ক্ষুদ্র দোকান ও উদ্যোক্তাদের পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সমন্বিত সরবরাহ কাঠামোয় যুক্ত করা সম্ভব। এতে পর্যটকের ব্যয় সরাসরি হাওরপাড়ের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণকারী ব্যবসাকে উৎসাহ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা যেমন ন্যায্য হবে,তেমনি প্রকৃতির ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,টাঙ্গুয়ারকে শুধু পর্যটনের চোখে দেখা যাবে না।এটি একটি জীবন্ত জলাভূমি,যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক শত বছরের।এখানে মাছ আছে,পাখি আছে, উদ্ভিদ আছে, কৃষি আছে এবং রয়েছে হাওরনির্ভর মানুষের জীবন।তাই পর্যটন যদি এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে,তবে তা আশীর্বাদ। আর যদি পর্যটনের নামে প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয় মানুষ নিজেদের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেই পিছিয়ে পড়েন,তবে সেই পর্যটনই একসময় নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা জানান পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে আসেন হাউসবোটের বিলাস উপভোগ করতে নয়; মূলত হাউসবোটের জানালা দিয়ে টাঙ্গুয়ারের প্রকৃতি দেখতে। সেই প্রকৃতিই যদি একদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়,তাহলে বিলাসী নৌযানের চাকচিক্য দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা যাবে না। তাই টাঙ্গুয়ারে পর্যটন বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন পর্যটনের ধরন,ব্যবস্থাপনা ও অংশীদারিত্বের কাঠামোকে নতুন করে সাজানো। বাইরের বিনিয়োগ থাকবে,কিন্তু স্থানীয় মানুষ বাদ পড়বেন না। আধুনিক হাউসবোট থাকবে,কিন্তু পরিবেশের সীমা অতিক্রম করবে না। পর্যটক আসবেন, কিন্তু তাঁদের ব্যয়ের সুফল হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। ব্যবসা হবে, কিন্তু প্রকৃতির ক্ষতির বিনিময়ে নয়।টাঙ্গুয়ারকে বাঁচিয়ে রেখে পর্যটন গড়ে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ এই হাওরের সৌন্দর্য কোনো কারখানায় তৈরি করা যায় না,কোনো প্রকল্প দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা যায় না।টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতি যদি বেঁচে থাকে,পর্যটনও বেঁচে থাকবে।স্থানীয় মানুষ যদি অংশীদার হন,পর্যটনের ভিতও শক্ত হবে।আর প্রকৃতিকে হারিয়ে যে বাণিজ্য দাঁড়ায়,তার স্থায়িত্বও শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—টাঙ্গুয়ারকে আমরা শুধু উপার্জনের ক্ষেত্র বানাব,নাকি প্রকৃতি, মানুষ ও পর্যটনের সহাবস্থানের একটি টেকসই দৃষ্টান্ত তৈরি করব?

উত্তরটি নির্ধারণ করবে শুধু টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটনের ভবিষ্যৎ নয়,নির্ধারণ করবে এই অনন্য জলাভূমির আগামী প্রজন্মের অস্তিত্বও।