জ্বালানি অরাজকতায় কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর; গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দুঃখ প্রকাশ

0
জ্বালানি অরাজকতায় কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর; গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দুঃখ প্রকাশ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জ্বালানি সংকটকে মূলধন করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে শক্ত হাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া নানা সংকট সমাধানে বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে দেশ পরিচালনা করা হবে, তবে নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কাইব) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিল্প-কারখানার মালিকদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ ও দেশের শিল্পখাত যে কষ্ট পাচ্ছে, সেজন্য আমি সরকার ও আমার দলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভঙ্গুর অর্থনীতির মতো জ্বালানি সংকটও আমরা পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পেয়েছি। তবে আমরা এটাকে অজুহাত হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আর তৈরি না হয়।”

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী’ স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে থেকে সুবিধা নিয়েছে এবং এখনো তারাই দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নতুন করে অরাজকতা উসকে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। নেতাকর্মীদের এই অপরাজনীতি জনগণের সামনে উন্মোচন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষই ’২৪-এর গণআন্দোলনের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’।

বিএনপির ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন, জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। এসব ঐতিহাসিক সত্য আইন বা আদালত দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে ঘোষিত পাঁচ দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো।