পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জবাবে ৩ ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা

0
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জবাবে ৩ ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে পাল্টা ও ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও ইরানের আধা-সরকারি মিডিয়া ‘তাসনিম নিউজ’-এর সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী প্রথম দফা হামলা চালায়। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এ সময় দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট আকৃতির ওই তেল ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পূর্ব মুহূর্তেই নাবিকেরা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হওয়ায় সাময়িকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন নৌ টহলে নিয়োজিত দুটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরেই এই কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অভিযানে ইরানের মোট তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক কড়া বার্তায় বলেন, “ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। মার্কিন বাহিনীর কোনো জাহাজ বা সম্পদে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখালে তার পরিণতিতে তেহরানের ওপর আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক খেসারত চাপিয়ে দেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ দ্বীপের মতো অতি-সংবেদনশীল অঞ্চলে সরাসরি মার্কিন হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের এই খার্গ দ্বীপেই রয়েছে ইরানের মূল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিল।