জয়নাল আবেদীন: রংপুরে চার খুনের ঘটনায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর শোবার ঘর পরিদর্শন করতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার বিকেলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. অনুপ কুমার সাহা’র নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ১৬ জন আইনজীবী নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে আসেন।
তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শনের বিষয়ে পূর্ব থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, কোতয়ালী থানা পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছিল। সেই সময় পুলিশ কমিশনার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শনের অনুমতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি পরিদর্শনে এসে থানা পুলিশ জানায় আইনজীবীদের শুধুমাত্র গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ও নিচ তলায় পরিদর্শনের অনুমতি আছে। গণপতি চক্রবর্তীর শোবার ঘর পরিদর্শনের অনুমতি নেই।
এনিয়ে একাধিকবার মোবাইল ফোনে পুলিশ কমিশনারের সাথে যোগযোগ করেও আইনজীবীরা কথা বলতে পারেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। পুলিশ কমিশনার পরিদর্শন দলের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা’র মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
অ্যাড. অনুপ কুমার সাহা বলেন, পরিদর্শনের আগে আমরা পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার ও কোতয়ালী থানা পুলিশের অনুমতি নিয়েছি। কিন্তু আমরা পরিদর্শনে আসার পর থানা পুলিশ জানায় গণপতি চক্রবর্তীর শোবার ঘরে প্রবেশ করা যাবে না। আমরা চার হত্যাকান্ডের ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট ফাইল করেছি। মানে এই মামলার সাথে আমরা সংশ্লিষ্ট রয়েছি। যদি আমরা ঘরের ভেতরটা দেখতে পেতাম, তাহলে বিজ্ঞ আদালতে আমরা তা উপস্থাপন করতে পারতাম। কিন্তু পুলিশ কমিশনার আমার ফোন ধরেন নাই, সেই সাথে নম্বর ব্লক করে রেখে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ কমিশনার জনগণের রক্ষক। নিরাপত্তার স্বার্থে, সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আমাদের ঘরটি দেখার অনুমতি দিলে তদন্তে কোন ব্যতয় ঘটতো না। এমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হবে এটি আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এরপরও বিশ্বাস হারাতে চাই না, সারাদেশের আইনজীবি, সচেতন মানুষ বিশ্বাস রাখতে চায়, এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হোক ও হত্যাকারীদের বিচার হোক। এর জন্য যা সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা বাংলাদেশে আইনজীবী ঐক্য পরিষদ করবো।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আইনজীবি ঐক্য পরিষদের নেতা অপূর্ব ভট্টাচার্য, জহরলাল দাসসহ রংপুর আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

