
বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিল ও অপসারণের দাবিতে আদালত বর্জন কর্মসূচি চলাকালে এজলাসে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে চরম হট্টগোল, তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে একপর্যায়ে শুনানি স্থগিত রেখে বিচারক খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির আদালত বর্জন কর্মসূচি চলাকালীন জজ আদালতের এজলাসে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তিন মাস বিচারকশূন্য থাকার পর আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সদ্য পদায়ন পাওয়া সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান দুপুরে এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। এ সময় শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব একটি মামলার শুনানির আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করে শুনানি সম্পন্ন করেন।
এরপর অন্য একজন আইনজীবী দ্বিতীয় একটি মামলার শুনানির উদ্যোগ নিলে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্জনকারী আইনজীবীরা এসে বাধা প্রদান করেন। এতে বর্জনের পক্ষে থাকা নেতৃবৃন্দ এবং বিচারিক কাজ সচল রাখার পক্ষে থাকা সাধারণ আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। মুহূর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির উপক্রম হলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।
আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচলের পক্ষে থাকা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, “দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশে নতুন জেলা জজ দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা জনস্বার্থে ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বার সমিতির সেক্রেটারি অহেতুক হট্টগোল সৃষ্টি করে পরিবেশ উত্তপ্ত করেছেন।”
অন্যদিকে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান বিগত সরকারের আমলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর পদায়ন বাতিলের জন্য প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি এজলাসে বসলে আমরা বর্জনের বিষয়টি স্মারক হিসেবে জানাতে যাই। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরির দায় সম্পূর্ণ তাদের, যারা সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সুযোগ নিতে চেয়েছে। বিতর্কিত এই বিচারক অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে বার সমিতির ব্যানারে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বার সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও জিপি শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত বিচারকের অতীত আচরণের কারণে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁকে বদলি করা হলেও পুনরায় এখানে পদায়ন করা অনুচিত হয়েছে।” অবিলম্বে তাঁর পুনঃপদায়ন বাতিল করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
