মহিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতঘরে আগুন, গৃহবধুকে মারধর ও শ্লীলতহানি

0
মহিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতঘরে আগুন, গৃহবধুকে মারধর ও শ্লীলতহানি

কলাপাড়া প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধুকে মারধর ও শ্লীলতাহানিসহ তার শ্বাশুরিকে হাত পা বেধে বিলের মধ্যে রেখে বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গৃহবধু শাহিনুর বেগম (৩৫) ও শ্বাশুরী কহিনুর বেগম শরীরের যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। শনিবার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে ভোররাত ও সন্ধ্যা রাতে এমন ঘটনা ঘটে।

গৃহবধু শাহিনুর তার শ্বশুর আবদুল বারেক ও শ্বাশুরী কহিনুর বেগম বলেন, আবদুল বারেকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম গংদের সঙ্গে মাত্র ৭.০১ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিলো এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এসব জমি আবদুল বারেকের দখলে রয়েছে। প্রায় ৩ মাস আগে প্রতিপক্ষরা তাদের কাছে ১ একর জমি ও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তার ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যায়।

এরপর থেকেই তাদের হুমকি ধামকিতে আবদুল বারেক প্রায় ঘর ছাড়া। বাড়িতে শুধুমাত্র তার পুত্রবধু শাহিনুর বেগম ও স্ত্রী কহিনুর বেগম (৬৮) অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে গত শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন অবাধে তার বাড়িতে প্রবেশ করে শাহিনুর বেগমকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করে৷ পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করে৷ এরপরে ওই দিন রাত আটটার দিকে ফের কহিনুরকে মারধর করে হাত, পা ও মুখ বেধে বিলের মধ্যে ফেলে রেখে বসতঘরে জালিয়ে দেয়। এতে ঘরটি সম্পূর্ন ভূস্মিভুত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, বারেকের সঙ্গে বেতকাটা গ্রামের বেল্লালেরও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শনিবার বেল্লাল তার বাড়ির কাছের খালে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলো। এসময় বারেকের ছেলে বশির বেল্লালের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আর তাদের বসতঘরে কিভাবে আগুন লেগেছে সেটা সে জানেন না৷ তবে তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।

মহিপুর থানার ওসি মো শামীম হাওলাদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।