‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পুলিশে চাকরি’—চুনারুঘাটে এএসআই ইলিয়াসের চরম বিতর্কিত মন্তব্য, ভিডিও ভাইরাল

0
‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পুলিশে চাকরি’—চুনারুঘাটে এএসআই ইলিয়াসের চরম বিতর্কিত মন্তব্য, ভিডিও ভাইরাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ “আমি যদি বলি পুলিশের দারোগা, ঘুষ খাই না… আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব? হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই!”— হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তার মুখে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের এমন সাফাই শুনে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনেই তিনি প্রকাশ্যে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির বিষয়ে বিষোদ্গার করতে শুরু করেন। ওই সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার এই বক্তব্যের ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, মামলার তদন্তের নামে ঘুষ না পেলে ইলিয়াস হোসাইন কোনো কাজ করেন না; উল্টো বাদী পক্ষকেই ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করেন। স্থানীয়দের দাবি, রানীগাঁও বাজারের ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার একটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্তেও তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি উল্টো বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ঘুষের দাবির বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” এরপরই তিনি তড়িঘড়ি করে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “ভিডিওটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন অসংলগ্ন ও অপেশাদার বক্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই বিতর্কিত কর্মকর্তা এএসআই ইলিয়াসকে দ্রুত চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী