‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে হামলা: রামেবি ভিসিকে জোরপূর্বক সরানোর অভিযোগ

0
‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে হামলা: রামেবি ভিসিকে জোরপূর্বক সরানোর অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) নজিরবিহীন অরাজকতা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০-২৫ জনের একটি ক্ষুব্ধ দল উপাচার্যের দপ্তরে তাণ্ডব চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে তাকে একটি অস্পষ্ট নথিতে সই করতে বাধ্য করে। একইসঙ্গে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীকেও মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, কার্যালয়ের বাইরে উত্তপ্ত স্লোগানের পর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ঠেলে জোরপূর্বক তার কক্ষে ঢুকে পড়ে। তারা তাকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বলে এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ঢাকার বাসিন্দাদের কাজ দেওয়ার মনগড়া অভিযোগ তোলে।

এরপর তার সামনে একটি তৈরি করা কাগজ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। উপাচার্য নথিটি পড়ার চেষ্টা করলে তাকে বলা হয়, ‘পড়ার দরকার নেই, সই করতে হবে।’ এ সময় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণভয়ের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে তিনি সেই কাগজে সই করেন।

ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা নথিপত্র নিয়ে উপাচার্যকে দপ্তর থেকে বের করে দেয়। তবে তাণ্ডব সেখানেই থামেনি; রামেবির বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্যের কক্ষের কম্পিউটারের সিপিইউ গায়েব করা হয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই সংযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নষ্ট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালানো হয়। রেজিস্টার, ডেপুটি রেজিস্টার ও সহকারী রেজিস্টার দপ্তরে তালা মেরে হুমকি দেওয়া হয়—তালা ভাঙার চেষ্টা করলে হাত ভেঙে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা যায়, ‘রাজশাহী আপামর ছাত্রজনতা’ ব্যানারে মানববন্ধনের পরপরই এ ঘটনা ঘটে। এই দলে রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুদ্দিন শামীমসহ একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

তবে বলপ্রয়োগ ও জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শরফুদ্দিন শামীম দাবি করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যানারে তারা শুধু প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, কাউকে জোর করে পদত্যাগ করানোর নেতৃত্বে তিনি ছিলেন না।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হলেও তা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন অধ্যাপক জাওয়াদুল হক। তিনি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান পরীক্ষার মধ্যে এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষা ও প্রকল্প কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করাসহ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।