নওগাঁয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রডপেটা করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই

0
নওগাঁয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রডপেটা করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই

রাণীনগর প্রতিনিধি:নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় প্রকাশ্যে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে ও বেপরোয়া হামলায় ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত লোহার রডের আঘাতে রক্তাত ও গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর-আদমদীঘি আঞ্চলিক সড়কের পারইল ব্রিজের নিকটবর্তী টাওয়ার এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

আহত দুই কর্মকর্তা হলেন—আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার কর্মকর্তা মো. নাজমুল (৩২) ও রাসেল (২৮)। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত পাশের আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন।

আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার স্বত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন জানান, স্বাভাবিক লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংকের সান্তাহার শাখা থেকে ক্যাশ তোলার পরিকল্পনা করা হয়। সান্তাহার শাখা থেকে উত্তোলন করা ৩০ লাখ টাকা এবং তার নিজের নগদ ৪ লাখ টাকাসহ মোট ৩৪ লাখ টাকার একটি ব্যাগ নিয়ে দুপুর নাগাদ মোটরসাইকেলে আবাদপুকুর ফিরছিলেন কর্মকর্তা নাজমুল ও রাসেল।

তবে পূর্ব থেকেই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারী দল তাদের ওপর নজর রাখছিল। মোটরসাইকেলটি পারইল ব্রিজের পাশের নির্জন টাওয়ার এলাকায় পৌঁছানোমাত্রই সামনে ও পেছন দিক থেকে হেলমেট পরা চার অস্ত্রধারী দুটি মোটরসাইকেলে এসে তাদের পথরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যেই দুষ্কৃতকারীরা লোহার রড দিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর উপর্যুপরি ও এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে। দুই কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পেয়েই রাণীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত ৩৪ লাখ টাকা পুনরুদ্ধারে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”

দিনদুপুরে এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।