হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

0
হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

কেশবপুর প্রতিবেদক: হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনেরা ধর্মীয় আলোচনা, জুমার খুতবা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন। শিশুদের সময়মতো টিকা প্রদান এবং রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৫অক্টোবর) সকাল ১০টায় যশোরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘হাম- রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোর জেলা কার্যালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকার ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা। হাম-রুবেলা প্রতিরোধ ও টিকাদান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ইপিআই স্পেশালিস্ট ও সারভেইলেন্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. সামিনা পারভীন।

ডা. সামিনা পারভীন বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটি রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, টিকাদান নিয়ে ভুল ধারণা দূূর করা এবং শিশুদের নির্ধারিত সমযয়ে টিকা দেওয়ার বিষযয়ে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রধান অতিথি খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, মানুষের কল্যাণ ও জীবন রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টিতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এগিয়ে আসতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোরের উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান ও সচেতনতামূলক বার্তা নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে যশোরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা

করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিস সুপারভাইজার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি মো. মঈনুউদ্দীন।