শ্রীপুরে স্বামীকে জিম্মি করে পোশাকশিল্প কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

0
শ্রীপুরে স্বামীকে জিম্মি করে পোশাকশিল্প কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) কর্মীকে নিজ বাড়িতে জিম্মি করে বর্বরোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে একের পর এক চারজন নরপশু এই নির্যাতন চালায় বলে জানা গেছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস এই ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্তের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয় একদল লম্পট ওই পোশাককর্মীর ঘরে হানা দেয়। তারা কৌশলে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কক্ষে আটকে রেখে তালাবদ্ধ করে দেয়।

এরপর মূল অভিযুক্ত ফারুক ও নয়ন জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় বাইরে পাহাড়ায় থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই যুবক ঘরে প্রবেশ করে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভুক্তভোগীর আর্ত চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতে শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত সটকে পড়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো. ফারুক (৩২) সিলেটের কোতোয়ালি থানার মাজারখানা এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নয়ন (১৯) শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে।

এ ছাড়া ঘটনায় সরাসরি জড়িত আরও দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয় কাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। ঘটনা জানার পরপরই অভিযুক্তদের ধরে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বুধবার রাতে আসামিদের গ্রেফতরে এলাকা ও তাদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পুলিশি অভিযানের টের পেয়ে আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও আইনি আলামত সংগ্রহের জন্য দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এই জঘন্য ও পাশবিক ঘটনার পর স্থানীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে মূল হোতাসহ জড়ো হওয়া সব ধর্ষককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।